নদী গর্ভ থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার ফলে ময়ূরাক্ষী নদীর গর্তে তলিয়ে গেল এক ব্যক্তি

0
1

নিজস্ব সংবাদদাতা,বীরভূম ,১৯ই আগস্ট :নদী গর্ভ থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার ফলে ময়ূরাক্ষী নদীর গর্তে তলিয়ে গেল এক ব্যক্তি।কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে ময়ূরাক্ষী নদীতে তলিয়ে গেলেন এক ব্যক্তি। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে মহঃবাজার থানা এলাকায়। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এদিক ওদিক খোঁজাখুঁজির পর ওই ব্যক্তির কোন রকম খোঁজ না পাওয়ায় অবশেষে প্রশাসনের তরফ থেকে নামানো হয়েছে বোট।

 

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল বৈকাল ৪টা থেকে ৪:৩০টার সময় কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে কোনো কারণবশত নিতাই আচার্য নামে বছর ৬৭র ওই ব্যক্তি বড়াম ঘাটের কাছে নদীতে নামেন। তারপর তিনি ময়ূরাক্ষী নদীর জলের তোড়ে তলিয়ে যান। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে কোন রকম খোঁজ পাওয়া যায়নি। অবশেষে উদ্ধার কার্যে প্রশাসনিকভাবে নামানো হয়েছে বোট। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া অব্দি এখনো পর্যন্ত ওই ব্যক্তির কোন রকম খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ ব্যক্তির আত্মীয় জয়ন্ত বিশ্বাস জানান, “কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করা সত্বেও যখন খুঁজে পাইনি তখন প্রশাসনিক তরফ থেকে নামানো হয়েছে বোট।”

 

কিন্তু স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে ব্যক্তি এই ময়ূরাক্ষী নদীর উপর দিয়েই পারাপার করছেন তিনি হঠাৎ করে কিভাবে তলিয়ে গেলেন জলে! স্থানীয় একাংশ মানুষের মতে বর্ষার আগে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ময়ুরাক্ষী নদী থেকে কখনো পাইপলাইন, কখনো বা জেসিবি মেশিন দিয়ে তোলা হচ্ছিল বালি। এর ফলে নদী গর্ভে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, বর্ষার সময় জল থাকায় সেই গর্ত বুঝতে পারেনি নিতাই আচার্য। সে কারণেই নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে সে।

স্থানীয়দের আরো এক ব্যক্তি ও ঠিক একই অভিযোগ করেন তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালি তুলে নেওয়ার কারণেই আজ একজন ব্যক্তিকে নদীর বুকে তলিয়ে যেতে হলো। তাঁকে জলে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে প্রমাণ করতে হলো আমরা কি অবস্থায় রয়েছি!

স্থানীয়দের আরো অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নদী পারাপারের জন্য সেতু নির্মাণের দাবি তোলা হলেও কোনো কাজ হয়নি। তারা ওই ব্যক্তির নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পিছনে মূলত বালিঘাট এবং সেতুর অভাবকেই দায়ী করেছেন।

NO COMMENTS