অভাবের জেরে ভিন রাজ্যে পাড়ি, ঝুঁকিপূর্ণ খেলা দেখিয়ে উপার্জন

0
35

নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুর, ৯ ডিসেম্বর, সংসারে অভাব। এই অভাব অনটন ঘুচাতে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয় মানুষজনেরা। সেটা হয়তো কর্মচারী অথবা শ্রমিক হিসাবে। কিন্তু নিজের জীবনকে বাজি রেখে অর্থ উপার্জন করা এও নতুন কোন বিষয় নয়।প্রতিদিনের যাতায়াতে আমরা মাঝেমধ্যেই দেখে থাকি ঝুঁকিপূর্ণভাবে নিজের জীবনকে বাজি রেখে খেলা দেখিয়ে লোকের কাছে ভিক্ষার থালা নিয়ে যাওয়া।কিন্তু আমরা কতজনই বা জানতে চাই তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের কারণটা ঠিক কি! সেরকমই এক চিত্র ধরা পড়ল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী এলাকায়।

নাম বলতে অস্বীকার করা মহিলা জানিয়েছেন এক ছেলে এবং ছোট্ট এক মেয়েকে নিয়ে বিহার থেকে এ জেলায় এসেছেন খেলা দেখাতে এবং অর্থ উপার্জন করতে। যেটা সংসারেঅর্থের চাহিদা মেটাবে।একটি সরু দড়ির উপরে ব্যালেন্স করে হাতে লাঠি নিয়ে হেটে চলা, যদিও বিশেষ ট্যালেন্ট না থাকলে এ কাজ সহজ নয়।তবুও এরপরও তাঁদের থালা নিয়ে লোকের কাছে যেতে হয় ভিক্ষা চাইতে।অর্থের অভাবে ছোটবেলা থেকেই ছেলে এবংমেয়েকে পড়াশোনা শেখাতে পারেনি তিনি এবং দারিদ্রতা দূর করতে নিজের রাজ্য ছেড়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন তারা।বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকায় এই ঝুঁকিপূর্ণ খেলা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করেন তারা। এই খেলার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বাচ্চা মেয়েকে দড়ির উপরে বিভিন্ন কায়দায় খেলা দেখাতে দেখা যায়।কখনো খালি পায়ে হেঁটে চলছে কখনো বা জুতো পায়ে দোড়ীর উপরে হেঁটে চলেছে কখনো হাটুর নিচে থালা চাপিয়ে দড়ির উপরে বিভিন্ন ভঙ্গিতে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাচ্ছে এবং কখনো সাইকেলের রিংএ ভর করে নিজস্ব কায়দায় দড়ির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাচ্ছে। যা দেখতে ভিড় জমায় শতাধিক মানুষ জনেরা।

এই সকল চিত্র নতুনত্ব কিছুই না সার্কাসে অবশ্য সচরাচর এসব দেখা যায় কিন্তু সেটা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে টিকিট করে দেখতে হয় এই খেলা গুলি ।কিন্তুএই দৃশ্য যেন অন্যরকম মাত্রা পেল কেননা এই ঝুঁকিপূর্ণ খেলা দেখানোর পর বাচ্চা মেয়েকে থালা হাতে সকলের সামনে অর্থের জন্য যেতে দেখা যায় সেখানে কেউ ১০ টাকা ২০ টাকা ৫ টাকা এবং মুষ্টিমেয় চাল দিচ্ছে আবার কেউখেলা দেখানোর শেষের দিকে যে যার মত বাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছে ,থাকলেই যে টাকা দিতে হবে।কেউ খুশি হয়ে তাদের টাকা এবং চাল দান করছে আবার কেউ কেউ মুখ লুকিয়ে বাড়ির দিকে চলে যাচ্ছে। অথচ সার্কাসে খেলা দেখতে হলে টাকার বিনিময় টিকিট করে যে,সেখানে ঢুকতে হবে সেই ব্যাপারে কারো অনীহা থাকে না।