অপুষ্টিতে মারা যাতে পারে ১০ লক্ষ আফগান শিশু, আশঙ্কা  ইউনিসেফের

আফগান

অপুষ্টিতে মারা যাতে পারে ১০ লক্ষ আফগান শিশু, আশঙ্কা  ইউনিসেফের  অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। কাজকর্ম বন্ধ। খাবারের বদলে কেনা হয়েছে শুধু অস্ত্র। তারই খেসারত দিচ্ছে আফগানিস্তান। বিশেষত  সেখানকার শিশুরা এক ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে এগিয়ে চলেছে।   ইউনিসেফ হুঁশিয়ারি দিল, এই বছর অপুষ্টিতে মারা যাতে পারে ১০ লক্ষ আফগান শিশু।

 

এই কথা বললেন ইউনিসেফ–এর একজিকিউটিভ ডিরেক্টর হেনরিয়েট্টা ফোর। রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি বৈঠকে তিনি বললেন, আফগানিস্তানে ১ কোটি ছেলেমেয়ে জীবন ধারণের জন্য অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। এজন্য ফোর ধনী দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে বলেছেন।

 

রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্য প্রকল্প সম্প্রতি প্রচুর খাদ্য সামগ্রি এনে বণ্টন করেছে আফগানিস্তানে। অন্তত ১৩০ কোটি ডলারের খাবারের প্রয়োজন সেদেশে। কিন্তু তার ৩৯ শতাংশ অনুদানই এসে পৌঁছেছে। আফগানিস্তানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কোঅর্ডিনেটর রামিজ আলাকবারোভ জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ফুরিয়ে যাবে মজুত খাবার। শীতকাল আসন্ন। তখন আরও বাড়বে খাদ্য সঙ্কট। না খেয়ে দিন কাটবে লাখ লাখ শিশুর।

 

আর ও পড়ুন    ভূতের ছবি দেখলে মিলবে ১ লক্ষ টাকা ! জানুন বিস্তারীত

 

আফগানিস্তান গত ২০ বছর ধরে বিদেশি অনুদানের ওপরে নির্ভর করেই চলছে।‌ ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করেছে তালিবান। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি। তার পর থেকে আফগানিস্তানকে খাবার বা অন্য জরুরি জিনিস দিয়ে সাহায্য বন্ধ করেছে পশ্চিমের দেশগুলো। তারা এভাবে আসলে চাপ দিতে চাইছে তালিবানকে, যাতে সেদেশে গণতন্ত্র স্থাপিত হয়। যাতে তালিবান মহিলা, শিশুদের অধিকারের মর্যাদা দেয়।

 

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই স্বীকৃতি দিতে চাইছে না তালিবান সরকারকে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ভালো করে তুলতে পারে, এমন সরকার আফগানিস্তানে প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তালিবান তা কখনওই পারবে না। এমনকী মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও তাদের নেই।

 

এদিকে তালিবানরা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই   আফগানিস্তানে ব্যবসা বন্ধ। সীমান্ত পেরিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে না। মানুষের হাতে কাজ নেই। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। স্থানীয় এক গ্রামবাসী বলছেন, ‘‌স্থানীয় বাজারে চারগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে আটা। মাংস খাওয়া এখন বিলাসিতা। চাল-ডালের দামও বাড়ছে। তবু বেঁচে থাকতে হবে। তাই আমরা এখন কম খাওয়ার অভ্যাস করছি।’‌

 

অপুষ্টিজনিত রোগ বরাবরই বেশি আফগানিস্তানে। যে হাসপাতালগুলিতে সেই রোগের চিকিৎসা হত, সেখানে আর জায়গা নেই। পরিস্থিতি এভাবে চললে কত মানুষ যে আসন্ন শীতে মারা যাবে, তার হদিশ থাকবে না, এমনই  আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।