দুর্যোগ মোকাবিলায় এবার হাজির কমলা বাহিনী, মহড়া শুরু হলো কোথায়?

কমলা
কমলা

দুর্যোগ মোকাবিলায় এবার হাজির কমলা বাহিনী, মহড়া শুরু হলো কোথায়?  ক্ষতিগ্রস্ত সমুদ্র বাঁধ ও নদী বাঁধ এখনও পুরোপুরি সারাই করা হয়নি। তার আগেই জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতায় রাতের ঘুম উড়েছে উপকূলবর্তী জেলার মানুষদের। ইতিমধ্যেই ঘর ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নদী ও সমুদ্র উপকূলের বাসিন্দাদের।

 

নিম্নচাপ এর জেরে দক্ষিণবঙ্গের উপকূল এলাকার জেলা জুড়ে প্রবল বৃষ্টি শুরু। গভীর রাত থেকেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে উপকূল এলাকাগুলিতে। যার ফলে নীচু এলাকাগুলিতে জল জমতে শুরু করেছে। গ্রামগুলিতে অধিকাংশ পুকুর ডুবে গিয়ে রাস্তা ভাসিয়ে দিয়েছে। কিছু কিছু নীচু এলাকার বাড়িগুলিতে জল ঢুকতে শুরু করেছে। অধিকাংশ রাস্তাগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

 

ইতিমধ্যে  দিঘার সমুদ্রে শুরু হয়েছে জলোচ্ছ্বাস। পর্যটকের সমুদ্রে নামায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। দিঘার পাশাপাশি, জলমগ্ন সমুদ্রবর্তী উপকূলবর্তী এগরা ও কাঁথির বিস্তীর্ণ এলাকা।

 

আর বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এল জেলায়। এই সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করার জন্য মহড়া করলেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কলকাতা ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা। ইতিমধ্যে দিঘার কাছে রামনগর ১ নম্বর ব্লকের তালগাছাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে হয়েছে এই মহড়া।

 

আর ও পড়ুন      তালিবানদের উত্থানে কেন আশঙ্কার মেঘ দেখছে ভারত ?

 

উল্লেখ্য, এই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর জাওয়ানরা প্লাবিত এলাকা থেকে মানুষদের কী ভাবে উদ্ধার করা হবে, তার মহড়া করেছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর জওয়ানরা। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, নদী-বন্যার তুলনায় সমুদ্রের বন্যা আরও ভয়াবহ। সমুদ্রের জল বাড়তে থাকলে তা খুব কম সময়েই বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই রকম অবস্থার মধ্যে থেকে মানুষদের উদ্ধার করা নিয়েই এই মহড়া আয়োজিত হয়েছে।

 

মহড়ার পাশাপাশি ব্লক স্তরের উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের নিয়ে একটি সেমিনারও আয়োজন করা হয়েছে। তবে এই শিক্ষা নিয়েই উপকূলবর্তী এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদেরও হাতেমকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়াস চলছে বলে একথা জানিয়েছেন রামনগর ১ ব্লকের বিডিও বিষ্ণুপদ রায়।

 

আবহাওয়াবিদদের কথায়, আজও রাজ্যজুড়ে চলবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। সারা দিনই আংশিক মেঘলা থাকবে আকাশ। তবে বুধবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।  ইতিমধ্যেই কলকাতা সহ সন্নিহিত এলাকায় চলছে বৃষ্টি।বাকি জেলাগুলির কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

 

বুধবার জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ইতিমধ্যে সমুদ্র উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলি তাদের কিনারায় ফিরে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।