ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভারত–মায়ানমার সীমান্ত

কেঁপে

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভারত–মায়ানমার সীমান্ত। শুক্রবার ভোরে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভারত–মায়ানমার সীমান্ত। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.১। ভূমিকম্পের জেরে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ–সহ কলকাতাও। শুক্রবার ভোর সওয়া ৫টা নাগাদ কলকাতায় অনুভূত হয় কম্পন। কম্পনের স্থায়িত্ব ছিল ৩০ সেকেন্ড। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, বালুরঘাটে অনুভূত হয়েছে কম্পন।

 

কেন্দ্রীয় মৌসম ভবন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল মিজোরামের থেনজল থেকে ৭৩ কিমি দক্ষিণ–পূর্বে ও ১২ কিমি গভীরে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে উৎসস্থল ১৭৪ কিমি পূর্বে। অসম, ত্রিপুরা এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছে কম্পন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটের মতো জায়গা কেঁপে উঠেছে। বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর অবশ্য পাওয়া যায়নি। আতঙ্কে মানুষজন বাইরে বেরিয়ে আসেন।

২০১৮–র জানুয়ারি থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৭ বার কম্পন অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশে। যার মধ্যে চলতি বছরই সবচেয়ে বেশিবার ভূমিকম্প হয়েছে। ৯ মাসে ২১ বার কেঁপেছে ওই দেশ।  ভারত-মায়ানমার সীমান্তে হওয়া ভুমিকম্পের রেশ এসে ধাক্কা দিল পশ্চিমবঙ্গেও। কেন্দ্রীয় মৌসম ভবন জানিয়েছে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিনবঙ্গের কিছু অংশে শুক্রবার সকাল ৫টা বেজে ১৮ মিনিটে কম্পন অনুভুত হয়।

 

আর ও পড়ুন     আজ থেকেই রাজ্যে কমতে চলেছে তাপমাত্রা, দুয়ারে শীত

 

এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ভারত-মায়ানমার সীমান্ত। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে ১৭৫ কিলোমিটার পূর্বে ভারত-মায়ানমার সীমান্তে হওয়া এই কম্পনের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৬.৩। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি সহ বিস্তির্ন অংশে কম্পন অনুভুত হলেও সেখানেও কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেই জানা গেছে।

 

প্রসঙ্গত, আমাদের ভূপৃষ্ঠ ভৌগোলিকদের ভাষায় কতগুলি সারফেস বা প্লেটে বিভক্ত। তারমধ্যে অন্যতম বড় প্লেট ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট। এই প্লেটের উত্তর পূর্ব অংশের কিছুটা অবস্থিত মায়ানমার সাগরের নিচে। আর বেশিরভাগটা পার্বত্য বা আধা সমতলে।তাপমাত্রার তারতম্যে ১১ নভেম্বর থেকে আফ্রিকান প্লেট অল্প অল্প করে স্থানচ্যুত হয়ে চলেছে। তার প্রভাবে ইন্দো-অস্ট্রেলিয়া প্লেটও স্থানচ্যুত হয়েছে। একে ভূ-বিদ্যার পরিভাষায় সিফটিং বলা হয়।

 

এর মূল কারণ, ভারতের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমের রাজ্য, যেমন উত্তরাখন্ড, হিমাচল, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, রাজস্থান ও পাঞ্জাবে এখন জাঁকিয়ে শীত। কিন্তু আনুষঙ্গিক নানা কারনে মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে তেমন শীত নেই। তাই প্লেট শিফট হয়েছে। ইন্দো অস্ট্রেলিয়ান প্লেট কিছুটা অবনমন বা নিচের দিকে নেমে যাওয়ায় এই ভূমিকম্প।