ধনতেরাস কী এবং কেন পালিত হয়? এবছরের ধনতেরাস কবে?

ধনতেরাস

ধনতেরাস কী এবং কেন পালিত হয়? এবছরের ধনতেরাস কবে? আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই দীপাবলী। সেই সঙ্গে কড়া নাড়বে ধনতেরাস। মূলত অবাঙালিদের মধ্যে এর প্রচলন থাকলেও এখন বাঙালিদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে এই উৎসব। এই উৎসবে মূলত সোনা কেনা হয়। দীপাবলী মূলত পাঁচ দিনের উত্সব। এর আর এক নাম আছে— ধনাত্রয়োদশী বা ধনবত্রী ত্রয়োদশী। ‘ধন’ শব্দের মানে সম্পত্তি। ত্রয়োদশী শব্দের অর্থ হিন্দু ক্যালেন্ডারের ১৩তম দিন। দীপাবলীর সময় লক্ষ্মীপুজোর দিন দুই আগে ধনতেরাস হয়। বলা হয়, ধনতেরাসের দিন দেবী লক্ষ্মী তার ভক্তদের গৃহে যান ও তাঁদের ইচ্ছাপূরণ করেন।

 

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এ দিন দামি ধাতু কেনেন। সম্পদের দেবতা কুবেরও এ দিন পূজিত হন। দিওয়ালির ২ দিন আগে কার্তিক মাসের ত্রয়োদশী তিথিতে উদযাপিত হয় ধনতেরাস। এছাড়া একে ধন ত্রয়োদশী বা ধন্বন্তরী জয়ন্তীও বলা হয়ে থাকে। মনে করা হয়, এই দিন মা লক্ষ্মী, ভগবান ধন্বন্তরী ও ধন কুবেরের আরাধনা করলে পরিবারে অর্থের ভাণ্ডার কখনওই শূন্য হয় না। এই বছর আগামী ২ নভেম্বর মঙ্গলবার উদযাপিত হবে ধনতেরাস উৎসব। ধনতেরাসেই ৫ দিন ব্যাপী দীপোৎসবের সূচনা হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে এই দিনেই সমুদ্র মন্থন থেকে ভগবান ধন্বন্তরী অমৃতের কলসি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেই কারণেই এই দিন বাসন কেনার রীতি রয়েছে।

 

এছাড়া ধনতেরাসে কোনও নতুন জিনিস কেনাও শুভ হিসেবে ধরা হয়। পুজো করা হয় কুবের দেবের। তাছাড়াও পরিবারের মঙ্গল কামনায় এই দিন ‘যম’ নামে এক প্রদীপও জ্বালানো হয়। এর আর একটি পৌরাণিক কাহিনি আছে তা হল- কথিত আছে, রাজা হিমার ১৬ বছরের ছেলের এক অভিশাপ ছিল। তার কুষ্টিতে লেখা ছিল, বিয়ের চার দিনের মাথায় সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হবে। তার স্ত্রীও জানত সেই কথা। তাই সেই অভিশপ্ত দিনে সে তার স্বামীকে সে দিন ঘুমোতে দেয়নি। শোয়ার ঘরের বাইরে সে সমস্ত গয়না ও সোনা-রূপার মুদ্রা জড়ো করে রাখে। সেই সঙ্গে সারা ঘরে বাতি জ্বালিয়ে দেয়।

 

আর ও পড়ুন    ভাসছে কেরল, মৃত ১৮, নিখোঁজ ১২ জনের বেশী

 

স্বামীকে জাগিয়ে রাখতে সে সারারাত তাকে গল্প শোনায়, গান শোনায়। পরের দিন যখন মৃত্যুর দেবতা যম তাদের ঘরের দরজায় আসে, আলো আর গয়নার জৌলুসে তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যায়। রাজপুত্রের শোয়ার ঘর পর্যন্ত তিনি পৌঁছন ঠিকই। কিন্তু সোনার উপর বসে গল্প আর গান শুনেই তাঁর সময় কেটে যায়। সকালে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যান তিনি। রাজপুত্রের প্রাণ বেঁচে যায়। পরদিন সেই আনন্দে ধনতেরাস পালন শুরু হয়। ধনতেরাসে সন্ধ্যেবেলা উত্তরদিকে কুবের দেব ও ভগবান ধন্বন্তরীকে প্রতিষ্ঠা করুন। তাঁদের সামনে জ্বলান ঘি-এর প্রদীপ।

 

কুবের দেবকে সাদা ও ভগবান ধন্বন্তরীকে হলুদ রঙের মিষ্টিভোগ অর্পণ করুন। পুজোয় বসে ‘ওঁ হ্রিং কুবেরায় নমঃ’ মন্ত্রোচ্চারণের পর ধন্বন্তরী স্তোত্র পাঠ করুন। পুজোর পর দীপাবলিতে কুবের দেবকে অর্থের স্থানে এবং ধন্বন্তরীকে ঠাকুরের আসনে স্থাপন করুন। এই বছর ধনতেরাস আগামী ২ নভেম্বর মঙ্গলবার। এই প্রসঙ্গে জ্যোতিষরা বলেন, ধনতেরাসে প্রদোষ কাল বিকেল ৫টা ৩৭ থেকে রাত্রি ৮টা ১১ মিনিট পর্যন্ত থাকবে এবং বৃষভ কাল সন্ধ্যা ৬টা ১৮ থেকে রাত্রি ৮টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। ধনতেরাসে পুজোর শুভ সময় হল সন্ধ্যে ৬টা ১৮ মিনিট থেকে ৮টা ১১ মিনিট।