প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল কটকে আইটিএটি-র অফিস ও আবাসনের উদ্বোধন করবেন

0
21

নয়াদিল্লি, ১০ নভেম্বর, ২০২০:ইনকাম ট্যাক্স অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের (আইটিএটি) সভাপতি বিচারপতি পি পি ভাট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আগামীকাল কটকে আইটিএটি-র দপ্তর ও আবাসন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করবেন ।

নরেন্দ্র মোদী আগামীকাল বিকেল ৪-৩০ মিনিটে এটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার, যোগাযোগ, বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী শ্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ইস্পাত মন্ত্রী শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী শ্রী নবীন পটনায়েক, ওড়িশা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সহ অন্যান্য বিচারপতিরা, আইটিএটি-র সভাপতি বিচারপতি পি পি ভাট, কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদের চেয়ারম্যান শ্রী পি সি মোদী এবং আইটিএটি-র সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও, ওই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা ও দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও যোগ দেবেন।বিচারপতি ভাট জানিয়েছেন, কটকের আইটিএটি ১৯৭০ সাল থেকে একটি ভাড়া বাড়িতে কাজ করছিল। প্রায় ৫০ বছর ধরে ওড়িশা রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের কাজ এখান থেকে করা হচ্ছিল। নতুন এই ভবনের উদ্বোধনের ফলে বিচার প্রক্রিয়ার সুবিধা হবে। এখানে বৈদ্যুতিন প্রক্রিয়ায় আদালতের কাজকর্ম – ই-কোর্ট-এর সুবিধাও থাকবে। এর ফলে কলকাতা আঞ্চলিক ক্ষেত্রের কটক শাখা, রাঁচি, পাটনা এবং গুয়াহাটি শাখার মামলাগুলির শুনানি ও নিষ্পত্তি বৈদ্যুতিন প্রক্রিয়ায় করতে পারবে।
আইটিএটি- র কটক শাখা ১৯৭০ সালের ২৩শে মে তৈরি করা হয়। সমস্ত ওড়িশা রাজ্যই কটক শাখার অন্তর্ভুক্ত। আইটিএটি-র কটক শাখার নবনির্মিত অফিস ও আবাসন ১.৬ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। ওড়িশা সরকার ২০১৫ সালে বিনামূল্যে এই ট্রাইব্যুনালকে জমি দিয়েছিল। এখানে ১,৯৩৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় অফিস তৈরি করা হয়েছে। তিনতলার এই বাড়িতে প্রশস্ত আদালত কক্ষ, অত্যাধুনিক রেকর্ড রুম, বেঞ্চের সদস্যদের চেম্বার, লাইব্রেরি, সম্মেলন কক্ষ ছাড়াও বিচার প্রার্থীদের জন্য প্রশস্ত জায়গা, আইনজীবী ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের জন্য বার রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে এই উপলক্ষ্যে আইটিএটি-র উপর একটি বৈদ্যুতিন কফি টেবিল বুক ও ‘২০১৪ সালের পর থেকে প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থার সংস্কার’ শীর্ষক আরেকটি বৈদ্যুতিন বই প্রকাশ করা হবে ।এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, কোভিড মহামারীর সময়ে আইটিএটি-র কাজকর্ম দেশ জুড়ে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে হয়েছে। সভাপতি জানিয়েছেন, লক ডাউনের সময় আইটিএটি ৭,২৫১টি মামলার নিষ্পত্তি করেছে। এছাড়াও এই সময়ে ৩,৭৭৮টি মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিকে ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে আইটিএটি জনসাধারণের কাছে বিচার প্রক্রিয়া পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালাচ্ছে। বৈদ্যুতিন পদ্ধতিতে মামলা রুজু করার একটি পোর্টাল ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বৈদ্যুতিন পদ্ধতিতে আবেদন জানানো ও নথি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এই আদালতে ডিজিটাল স্ক্রিন বসানো হচ্ছে যার ফলে, কাগজের মাধ্যমে বিভিন্ন নোটিশ দেওয়া এবং মামলার তালিকা সম্পর্কিত তথ্য এখন থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা যাবে।
আইটিএটি-র প্রসঙ্গেঃ-
আয়কর দপ্তরের অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল যা আইটিএটি হিসেবে পরিচিত, প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে এটি একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। এই ট্রাইব্যুনালের আদেশনামা বিভিন্ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয় এবং এগুলিকেই চূড়ান্ত আদেশ বলে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট ও গুজরাট হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি পি টি ভাট এই ট্রাইব্যুনালের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
আইটিএটি ১৯৪১ সালের ২৬শে জানুয়ারি গঠন করা হয়েছিল। দেশের মধ্যে এটিই প্রথম ট্রাইব্যুনাল হওয়ায় একে ‘মাদার ট্রাইব্যুনাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৪১ সালে দিল্লি, বম্বে এবং কলকাতা – এই তিনটি শহরে এই ট্রাইব্যুনালের তিনটি বেঞ্চ ছিল। বর্তমানে দেশের ৩০টি শহরে এর ৬৩টি বেঞ্চ এবং দুটি সার্কিট বেঞ্চ রয়েছে। আইটিএটি-র মূল ভাবনা হল – ‘নিরপেক্ষ সুলভ সত্বর ন্যায়’। ৭৯ বছর ধরে এই ট্রাইব্যুনাল বিচারপ্রার্থীদের নিরপেক্ষভাবে ন্যায় নিশ্চিত করেছে এবং বিভিন্ন জটিলতা ছাড়াই বিচারপ্রার্থীরা বিচার পেয়েছেন।