প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা – গ্রামীণ’-এর প্রথম পর্যায়ে লক্ষ্য পূরণ হল অসংখ্য মানুষের

0
3

নয়াদিল্লি, ৬ এপ্রিল, ২০২১ভারত সরকারের ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা – গ্রামীণ’-এর প্রথম পর্যায়ে ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত ৯২ শতাংশ লক্ষ্যপূরণ হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ‘অম্রুত মহোৎসব’-এর সমাপ্তি নাগাদ স্থায়ী অপেক্ষমান তালিকায় থাকা সমস্ত গৃহ নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হবে। বর্তমান স্থায়ী তালিকায় ২০১১-র জাতি-ভিত্তিক জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে আজ পর্যন্ত ২ কোটি ১৪ লক্ষ সুফলভোগী এই কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণে বৈধ বলে দেখা গেছে।

যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে এই তালিকায় ২ কোটি ৯৫ লক্ষ পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণের লক্ষ্য স্থির হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার সুবিধা গ্রহণের যোগ্যতামান যাচাইয়ের পর বহু পরিবার অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে, ২ কোটি ১৪ লক্ষ পরিবারকে কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণে তালিকাভুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগ্যতামান যাচাইয়ের পর তালিকায় থাকা পরিবারের সংখ্যা আরও কমতে পারে। এখনও পর্যন্ত কর্মসূচিতে ১ কোটি ৯২ লক্ষ পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণের যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির হয় তার মধ্যে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ পরিবারকে গৃহ দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে যে ১ কোটি গৃহ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ৯২ শতাংশ লক্ষ্যপূরণ করা গেছে।২০২০-২১ অর্থবর্ষে বাজেট সহায়তা হিসেবে কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ১৯,২৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এছাড়াও, অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ হিসেবে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, কর্মসূচির সূচনার সময় থেকে এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক ৩৯,২৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যের অংশ সহ রাজ্যগুলির পক্ষ থেকে কর্মসূচির আওতায় ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬,৬৬১ কোটি টাকা। এই অর্থ কর্মসূচির সূচনার সময় থেকে এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক।উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ২০১৪-১৫ থেকে গৃহ নির্মাণের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে তার ফলে পূর্ববর্তী ইন্দিরা আবাস যোজনার কাজকর্মে অগ্রগতি ঘটেছে। ইন্দিরা আবাস যোজনায় পর্যাপ্ত পরিমাণে তহবিল সংস্থানের ফলে এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে সংস্কারের দরুণ প্রায় ৭৩ লক্ষ গৃহ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এর ফলে, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা – গ্রামীণ’ এবং ইন্দিরা আবাস যোজনায় ২০১৪-১৫ থেকে এখনও পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলে প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ গৃহ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা – গ্রামীণ’ কর্মসূচির আওতায় কয়েকটি সংস্কারের ফলে গৃহ নির্মাণের কাজে এবং গৃহের গুণগত মানে অগ্রগতি হয়েছে। একইসঙ্গে, সময়মতো গৃহ নির্মাণের কাজে আরও গতি এসেছে। গৃহ নির্মাণের সমগ্র প্রক্রিয়াটি বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সুফলভোগীদের কাছে তহবিল সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে এবং সমস্ত কাজকর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা – গ্রামীণ’ কর্মসূচির আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ২ কোটি ৯৫ লক্ষ থেকে কমে ২ কোটি ১৪ লক্ষ হওয়ায় সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পক্ষ থেকে যোগ্য সুফলভোগীদের চিহ্নিত করতে ‘আবাস +’ নামে একটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়। এই সমীক্ষার ভিত্তিতে কর্মসূচির আওতায় স্থায়ী অপেক্ষমান তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এদিকে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক ‘আবাস +’ সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া চূড়ান্ত তালিকায় আরও কিছু বৈধ পরিবারকে সামিল করার জন্য গত জুলাই মাসে অর্থ মন্ত্রকের কাছে একটি প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবে স্থায়ী অপেক্ষমান তালিকায় থাকা পরিবারের সংখ্যা ২ কোটি ৯৫ লক্ষের বেশি হবে না বলেও সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়। বর্তমানে সমীক্ষার ফলাফল যাচাই করে দেখা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী আরও কিছু পরিবারকে সংশোধিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।উল্লেখ করা যেতে পারে, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা – গ্রামীণ’ কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি যার উদ্দেশ্য হল ২০২২ সালের মধ্যে সকলের জন্য গৃহের সংস্থান করা। সামাজিক কল্যাণমূলক এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার ২০২১-এর জাত-ভিত্তিক জনগণনা অনুযায়ী চিহ্নিত বৈধ সুফলভোগী পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ২০২১-২২-এর মধ্যে যাবতীয় মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সহ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি ৯৫ লক্ষ গৃহ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, এই পরিবারগুলিকে স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় নিয়ে এসে শৌচাগারের সুবিধা প্রদান, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে রান্নার গ্যাসের সংযোগ প্রদান তথা এমজিএনআরইজিএ -এর আওতায় অদক্ষ শ্রমিকদের ৯০-৯৫ দিন কাজের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য স্থির হয়েছে। ২০১৬-র নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির সূচনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা – গ্রামীণ’ কর্মসূচিতে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি হয়েছে।

আরও পড়ুন…বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানের সীমান্তবর্তী কাঁকসার কৃষ্ণপুরের অজয় নদীর ধারে চলছে নাকা চেকিং