মমতা-মোদী সম্পর্কে নতুন মোড়? বিরোধিতা নয় সহযোগিতার বার্তা

বিরোধিতা

মমতা-মোদী সম্পর্কে নতুন মোড়? বিরোধিতা নয় সহযোগিতার বার্তা। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুধবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। এদিন বিকেল  ৫টায় শুরু হয় মোদী এবং মমতার বৈঠক। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে হয় এই বৈঠক।

 

আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বৈঠক বিশাল তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০২১এর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়লাভের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু একটা বার্তা দিয়েছেন যে তিনি কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো সংঘাতের রাজনীতিতে যেতে ইচ্ছুক নন। বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে লড়াই নিশ্চয়ই হতে পারে পশ্চিমবঙ্গে রণাঙ্গনে। কিন্তু তাই বলে কেন্দ্র রাজ্যের সম্পর্কের যে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা তার প্রতি তিনি আস্থা রেখেই এগোতে চান।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক আজ প্রথম নয় ।এর আগেও হয়েছে। কিন্তু আজকের এই বৈঠকটি যেভাবে একটা সুদীর্ঘ আলোচনার পটভূমি তৈরি করেছে সেটা কিন্তু পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ এবং আকর্ষণীয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়ন আজ যেটা দেখা গেছে তার মধ্যে দুই পক্ষের দিক থেকেই একটা পারস্পরিক বোঝাপড়ার চেষ্টা রয়েছে।

 

নরেন্দ্র মোদীর শাসনকালের সাত বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচন দিরেদিরে এগিয়ে আসছে। উত্তর প্রদেশ এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন নরেন্দ্র মোদীর কাছে ২০২৪এর লোকসভা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তার আগে নরেন্দ্র মোদীর ২০১৪সালের যে মানসিকতা বা দৃষ্টিভঙ্গি তাতে যে কিছু পরিবর্তন আসছে সেটা আমরা কিছুটা বুঝতে পারছি।

 

যে ভাবে কৃষক বিল প্রত্যাহার করেছেন, যেভাবে তিনি নিজেরই পছন্দের মুখ্যমন্ত্রীকে উত্তরাখণ্ডে বদল করছেন। মোদীর সম্পর্কে যে ধারণা এতদিন ছিল যে, তিনি অনমনীয় তিনি সহজে পরিবর্তন করেন না নিজের সিদ্ধান্ত সেই মনোভাবের একটা পরিবর্তন কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেটা হয়তো কিছুটা পরিস্থিতির চাপে পড়েই। তার কারণ করোনা বিপর্যয় ,আর্থিক সংকট নানান দিক থেকে কিন্তু নরেন্দ্র মোদীকে যথেষ্ট সমস্যায় ফেলেছে। যে জনপ্রিয়তা টা ২০১৪ সালে ছিল সেই জনপ্রিয়তা টা কিন্তু আজ নরেন্দ্র মোদীর যে নেই সেটা তো একটা বৈজ্ঞানিক সত্য।

 

এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বার্তাটা দিচ্ছেন যে, আমি রাজ্যের জন্য অভাব অভিযোগ জানাবো। সেখানে বিএসএফ যেভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জমির মধ্যে ঢুকেছে সে ব্যাপারেও যেরকম প্রতিবাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন এবং চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কে সেই থেকে যে পাওনা অর্থ রাজ্যগুলোর বঞ্চিত হচ্ছে সেই বঞ্চনার কথা কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীকে। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের যে একটা পুনর্বিন্যাস, পুনর্গঠন হওয়া প্রয়োজন। সেইটা প্রধানমন্ত্রীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বুঝিয়ে দিয়েছেন।

 

এমনকি যে রাজ্যপাল কেন্দ্র এবং রাজ্যের সব থেকে বড় সাংবিধানিক সেতু সেই রাজ্যপালের ভূমিকাও কিন্তু এই আলোচনায় উঠে এসেছে। এর আগে অটল বিহারী বাজপেয়ী যখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তখন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বলেছিলেন যে , এটা একটা অসভ্য এবং বর্বরের সরকার গঠিত হলো দিল্লিতে। আর সেই কারণে তিনি এই অসভ্য সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কখনোই দেখা করবেন না।

 

আর ও পড়ুন    কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্কে সংঘাত কাম্য নয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বললেন মমতা

 

কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর দল বুঝতে পেরেছিল যে এই রণকৌশল মোটেই সঠিক পদক্ষেপ নয়। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মত নেতা জ্যোতিবাবু কে বুঝিয়েছিলেন যে একটা আলাপ-আলোচনার মেকানিজম কিন্তু কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। পরবর্তী ইতিহাস তো আমরা সবাই জানি ।

 

কিভাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তখনকার উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণীর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গেও বুদ্ধবাবু সম্পর্ক গড়ে তোলেন ।তাতে আর কিছু না হোক রাজ্যের জন্য কিছু জিনিস তারা আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।