পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তিন জন শিক্ষক পেলেন শিক্ষারত্ন ( Shiksharatna )

Shiksharatna
Shiksharatna
1 87 পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তিন জন  শিক্ষক পেলেন শিক্ষারত্ন  ( Shiksharatna )
ছবি সংগ্রহে সাইন টিভি

 

শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের সম্মাননা ( Shiksharatna ) জানালো রাজ্য সরকার। জাতীয় শিক্ষক তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ-কে স্মরণ করে এই শিক্ষক দিবসে রাজের মোট ৬১ জন শিক্ষকের হাতে তুলে দেওয়া হল “শিক্ষারত্ন” পুরস্কার। তালিকায় আছেন, জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুরের তিন শিক্ষক।

 

রাজ্যের পক্ষ থেকে সম্মান জানালেন শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু সহ রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রীরা। জেলার শিক্ষকদের ভার্চুয়ালি সম্মান জানালো রাজ্য শিক্ষা দফতর। সরাসরি পুরস্কার ( Shiksharatna ) তুলে দিলেন জেলাশাসক সহ জেলা প্রশাসন। খুশির হাওয়া জঙ্গল মহল মেদিনীপুরে।

 

উল্লেখ্য, রবিবার ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের ১৩৪ তম জন্মদিবসকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যের শিক্ষকদের সম্মান জ্ঞাপন করে রাজ্য সরকার। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর ছিল রাজ্যের শিক্ষক মহল। তবে গত বছরের মতোই অতিমারী আবহে ভার্চুয়ালি ( Shiksharatna ) শিক্ষক দিবস পালন করল রাজ্য সরকার। মহানগর কলকাতা থেকে শিক্ষকদের সম্মান জ্ঞাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

 

প্রতিটা জেলায় জেলাশাসক কে দিয়ে ভার্চুয়ালি শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। রাজ্যের মোট ৬১ জন শিক্ষককে সম্মান জানানো হয় এবং তাদের যথাযোগ্য সম্মান অর্থ এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুরের মোট তিন জন শিক্ষক “শিক্ষারত্ন” সম্মাননা পেলেন। এনারা হলেন- মেদিনীপুর টাউন স্কুলের শিক্ষক ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. অজয় কুমার মিশ্র, দাঁতন দোয়াস্তি স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বপন দাস প্রধান।

 

ভার্চুয়ালি শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করার পর জেলায় শিক্ষকদেরকে সম্মাননা তুলে দেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক ডক্টর রেশমি কোমল। তাঁদের সম্মান জানানোর জন্য বই শাল এবং যাবতীয় জিনিসের সঙ্গে চেক তুলে দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকার। এই তিন শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা করা (Phd) ৩১ জন শিক্ষককেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

 

প্রসঙ্গত, মেদিনীপুর টাউন হেরিটেজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে রাষ্ট্রীয় শিক্ষারত্ন পুরস্কারে (সংক্ষেপে ‘রাষ্ট্রপতি পুরস্কার’) ভূষিত হয়েছেন। ইংরেজি সাহিত্যের এই বিদগ্ধ ও পন্ডিত মানুষটি সারা বিশ্বজুড়ে তাঁর জ্ঞান ও গরিমার স্বাক্ষর রেখেছেন বিভিন্ন বক্তৃতা ও শিক্ষা সম্বন্ধীয় অনুষ্ঠানে। লিখেছেন ১৪ টি গ্রন্থ।

 

আর ও  পড়ুন    পুরুলিয়ার এক ব্যাক্তির বাড়ি থেকে ময়ুর ( Peacock ) উদ্ধার

 

ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং মালয়েশিয়ার মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিয়ে পেয়েছেন সম্মাননা পত্র। একাধিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফেলোশিপ পেয়েছেন। শ্রীলংকা থেকে আমন্ত্রিত হয়ে পেয়েছেন ‘ইন্টার্নেশনাল পিস অ্যাম্বাসেডর’ সম্মান।

 

মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র (দাঁতনের মোহনপুর ব্লকের পুরুনীয়া গ্রামে জন্ম) ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী ২০০৬ সালে মেদিনীপুর টাউন স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১০ সালে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মেদিনীপুর টাউন স্কুল “হেরিটেজ” ঘোষিত হয়।

 

শহীদ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অন্যতম পীঠস্থান এই টাউন স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামো তাঁর আন্তরিকতা স্পর্শে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। বর্তমানে জেলা শহর মেদিনীপুরের বাসিন্দা ড. চক্রবর্তী একজন বিশিষ্ট “রবীন্দ্র গবেষক” এবং লেখক রূপেও সর্বজনবিদিত। শিক্ষা জগৎ ছাড়াও সামাজিক ক্ষেত্রেও তার অবদান সর্বজন স্বীকৃত। ড. চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “এই সম্মান শুধু আমার নয়, আমার বিদ্যালয়েরও।

 

আমার বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী-কে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করবে এই সম্মান। সর্বজন শ্রদ্ধেয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর-কে অন্তরের অন্তর্স্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই। কৃতজ্ঞতা জানান জেলাশাসক ড. রশ্নি কমলের প্রতি।

 

বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো ও সার্বিক বিকাশে যথাসাধ্য সমর্পিত থেকেছি। বিদ্যালয়ের আরও মানোন্নয়ন ঘটানোই আগামীদিনের লক্ষ্য।”