জঙ্গল রাজ চলছে ত্রিপুরায়, বললেন অভিষেক। আগরতলায় পা দিয়েই বিপ্লব দেবের সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক হলেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, জঙ্গল রাজ চলছে ত্রিপুরায়। সোমবার আগরতলায় তাঁর পদযাত্রা ছিল। আইন-শৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে যার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। আড়াই ঘন্টা পথসভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ টুইট করে বলেন, ‘অভিষেকের পদযাত্রা বাতিল করল ত্রিপুরা সরকার।
আগরতলায় পৌঁছে এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘আমাকে পদযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়নি। গত ১৯ নভেম্বর আবেদন করেছিলাম। প্রতিবার আমায় আটকানো হয়। রবিবার রাতে এসডিপিও আমায় বলেন, সভা করুন কিন্তু পদযাত্রা করার অনুমতি দেব না।’ তবে অনুমতি পেলেও তিনি পথসভা করবেন না। তাঁর কথায়, ‘মঞ্চ বাঁধতে চারঘন্টা সময় লাগে। লোককে জানাতে সময় লাগে।’
এদিন অভিষেক আসার আগেই বিমানবন্দরে তাঁর কনভয়ের কাছে পরিত্যক্ত একটি ব্যাগকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়ায়। ব্যাগটিতে বোমা আছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হয়। সিআইএসএফ জওয়ানরা এসে জায়গাটি ঘিরে নেন। আসে বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড। অভিষেক বলেন, ‘বিপ্লব দেবের রাগ থাকলে বোমা লাগিয়ে আমার গাড়ি উড়িয়ে দিন। সাধারণ মানুষের ওপর রাগ কেন? ধমকে চমকে তৃণমূলকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’
রবিবার আগরতলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন যুব তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ। তাঁর গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সায়নী কী করেছে? খেলা হবে স্লোগানটা দিয়েছে। যদি সায়নীকে গ্রেপ্তার করা হয় তবে নরেন্দ্র মোদিকে কেন গ্রেপ্তার করা হল না? তিনিও তো বাংলায় গিয়ে এই স্লোগান দিয়েছিলেন। এই স্লোগানের জন্য সায়নীকে গ্রেপ্তার করল। আর যারা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করল তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে!’
আর ও পড়ুন পাঠানকোটের সেনা ক্যাম্পের কাছে গ্রেনেড হামলা
সায়নীকে মুক্ত করার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সোমবারই আগরতলায় দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তিনি। এদিন সায়নীকে দেখতে সকালে থানায় যান ব্রাত্য, কুণাল, সাংসদ সুষ্মিতা দেব এবং প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবীরা। পুলিশের সঙ্গে কথা বলা ছাড়াও আইনজীবিরা সায়নীর সঙ্গে কথা বলেন।
এদিন আগরতলায় পা দিয়েই আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘ত্রিপুরায় জঙ্গলরাজ চলছে। আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছুই নেই। থানায় ঢুকে মারধর করছে আর পুলিশ টেবিলের তলায় লুকাচ্ছে।’ তাঁর অভিযোগ, ‘সুন্ঠুভাবে নির্বাচন এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না।



















