কপ্টার দুর্ঘটনা, মাঝপথে প্রশাসনিক বৈঠক থামালেন মমতা । তামিলনাড়ুতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে সেনা সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াত। মর্মান্তিক এই খবর পেয়েই প্রশাসনিক বৈঠক থামিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘সংবাদটা পেয়ে মনখারাপ হয়ে গেল। আরও কিছু আলোচনার ছিল। কিন্তু এত বড় দুঃসংবাদ এল!’ বুধবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ তামিলনাড়ুর কোন্নুরের নীলগিরি জঙ্গলে ভেঙে পড়ে সেনার এমআই-১৭ কপ্টারটি।
ঘটনার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক থামিয়েই বলেন, ‘বড়সড় দুঃসংবাদ এল। মনটা খারাপ হয়ে গেল। কতটা খারাপ লাগছে বলে বোঝাতে পারব না।’ এরপরই টুইট করেন তিনি। লেখেন, ‘কোন্নুর থেকে অত্যন্ত দুঃখজনক খবর এল। সারা দেশ আজ বিপিন রাওয়াত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রার্থনা করছে। আহতদের সকলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’
জানা গিয়েছে, সুলুরের সেনা ছাউনি থেকে চপারটি ওয়েলিংটনের সেনাঘাঁটির দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় মোট ১৪ জন সেই চপারে সওয়ার ছিলেন। রাওয়াতের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীও ছিলেন। ইতিমধ্যেই ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। বিপিন রাওয়াতকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
আর ও পড়ুন মালদা জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
উল্লেখ্য, ভারতের তামিলনাড়ুর কুন্নুরে নীলগিরির জঙ্গলে ভেঙে পড়ল ভারতীয় সেনার কপ্টার। ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ তথা সেনা সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াত সহ মোট ১৪ জন ওই দুর্ঘটনাগ্রস্ত কপ্টারে ছিলেন। ছিলেন রাওয়তের স্ত্রী মধুলিকাও। জানা গিয়েছে, বুধবার বেলা ১২টা ৪০ নাগাদ নীলগিরির জঙ্গলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভেঙে পড়ে সেনার এমআই- ১৭ কপ্টারটি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে ভারতের সেনা বাহিনী। শুরু হয় উদ্ধার কাজ। কপ্টারটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক জনের অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেলেও অসমর্থিত সুত্রের খবর, দুর্ঘটনার ফলে মোট ১১ জনের মৃত্যু ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর মারাত্মক আহত হয়েছেন বিপিন রাওয়াত। গন্তব্যের মাত্র ১০ কিলোমিটার আগে ভেঙে পড়ে রাশিয়ায় তৈরি বায়ুসেনার ওই কপ্টার। এটির ডানা ছাড়া আর সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, যে কোনও আবহাওয়ার উড়তে সক্ষম এই এমআই-১৭ কপ্টার। সেনাবাহিনীর ট্রান্সপোর্ট কপ্টার হিসেবে বেশ সুখ্যাতি রয়েছে এই কপ্টারটির।
রাশিয়ায় তৈরি এই কপ্টারটিরে সেনা জওয়ান, মালপত্র, যন্ত্রপাতি পরিবহণের কাজে ব্যবহার করা হয়। কপ্টারটির বাইরের ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় মালপত্র। সেনাবাহিনীর এই কপ্টারটির প্রধান কাজ হল এয়ার ড্রপ। মাটিতে থাকা কোনও টার্গেটে আঘাত করা ও আহতদের তুলে আনা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত কপ্টারে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত ও তাঁর স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াত ছাড়াও ছিলেন নায়েক গুরসেবক সিং, নায়েক জিতেন্দ্র কুমার, ব্রিগেডিয়ার এল এস লিড্ডর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হরজিন্দর সিং, ল্যান্সনায়েক বিবেক কুমার, ল্যান্সনায়েক বি সাই তেজা ও হাবিলদার সতপাল।



















